sponsor

Slider

Theme images by kelvinjay. Powered by Blogger.

Comment

Ad Banner

Sports

Recent News

Search This Blog

Blog Archive

Search This Blog

Post Top Ad

Your Ad Spot

Facebook

Subscribe Us

Slider

Ad Code

Responsive Advertisement

About Us

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an... more →

Send Quick Message

Name

Email *

Message *

Discovering Evergreen Bangladesh Intemacy

Discovering Evergreen Bangladesh Intemacy
.................................

Thumbnail Image

Thumbnail Image

Breaking

Find me! @ cofkhan.ml

test

Recent Tube

সফর অবস্থায় সালাত আদায় এবং গাড়ির মধ্যে তা আদায় করার পদ্ধতি


প্রশ্ন: 
▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰
ক. গাড়িতে বসে কিভাবে সালাত আদায় করতে হয়?
খ. সফর অবস্থায় নামাযের পদ্ধতি কি? 
গ. যদি ওযু না থাকে এবং গাড়ি থেকে নেমে ওযু করা সম্ভব না হয় বা তায়াম্মুম করারও সুযোগ না পাওয়া যায় তাহলে কিভাবে সালাত আদায় করব?
ঘ. কিবালার দিকে ফিরে সালাত আদায় করা সম্ভব না হলে কিভাবে সালাত আদায় করব?
▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰
উত্তর:

🔹ক. গাড়িতে বসে সালাত আদায়ের পদ্ধতি:

যদি সালাতের সময় শেষ হওয়ার পূর্বে গাড়ি থেকে নামার সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে গাড়ি থেকে নেমেই সালাত আদায় করতে হবে। কিন্তু  যদি গাড়ি থেকে নেমে সালাত আদায়ের সুযোগ না থাকে এবং এ অবস্থায় সালাতের সময় অতিবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে গাড়ির মাধ্যেই সালাত আদায় করতে হবে। 

এর পদ্ধতি হল, গাড়ির সিটে বসে কিবলার দিকে মুখ করে সালাত শুরু করার পর ইশারায় রুকু-সেজদা করতে হবে। রুকুর জন্য মাথাটা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকাতে হবে আর সেজদা জন্য তার চেয়ে একটু বেশি ঝুাকাতে হবে। কিবলার দিকে মুখ করে শুরু করার পর গাড়ি অন্য দিকে ঘুরলেও সমস্যা নেই। এতে সালাতের কোন ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য যে, উক্ত পদ্ধতিতে কেউ ইচ্ছে করলে, গাড়িতে বসে যতখুশি নফল সালাত আদায় করতে পারে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে চলতি পথে বাহনে বসে নফল সালাত আদায় করতেন কিন্তু ফরজ সালাতগুলো বাহন থেকে নেমে মাটিতে নেমে আদায় করতেন। তাই যথাসম্ভব ফরয নামাযগুলো গাড়ি থেকে নেমে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কোন কারণে নামা সম্ভব না হলে গাড়িতে আদায় করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

🔹 খ. সফর অবস্থায় দু ওয়াক্তের নামায একত্রিত করে পড়া জায়েজ আছে:

 দূরে সফর কালীন সময় যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাতকে যেমন যথাসময়ে আদায় করা জায়েজ অনুরূপভাবে যোহর+আসর এবং মাগরিব+ইশাকে একত্রিত করে অগ্রিম বা পিছিয়ে আদায় করা জায়েজ রয়েছে। অর্থাৎ যোহরের সময় প্রথমে যোহরের দু রাকআত ফরয কসর করা তারপর আসরের দু রাকআত কসর সালাত অগ্রিম পড়া।
অথবা যোহরের সময় যোহরের সালাত না পড়ে -তা পিছিয়ে আসরের সময় প্রথমে যোহরের দু রাকআত কসর পড়া তারপর আসরের দু রাকআত সালাত কসর পড়া। 
অনুরূপভাবে মাগরিবের সময় প্রথমে মাগরিবের ৩ রাকআত আদায় করা তারপর ইশার দু রাকআত সালাত অগ্রিম পড়া
অথবা মাগরিবকে পিছিয়ে ইশার সময় প্রথমে মাগরিবের ৩ রাকআত আদায় করা অত:পর ইশার দু রাকআত ফরয সালাত কসর  পড়া।
কিন্তু ফজর সালাতকে যোহরের সাথে অথবা আসরকে মাগরিবের সাথে অথবা ইশাকে ফজরের সাথে একত্রিত করা বৈধ নয়।

🔹গ. সফর অবস্থায় চার রাকআত বিশিষ্ট ফরয সালাতগুলো কসর তথা দু রাকআত করে পড়া এবং সুন্নত সালাতগুলো না পড়াই সুন্নত:

সফরের ক্ষেত্রে চার রাকআত বিশিষ্ট ফরয সালাত (যেমন যোহর, আসর ও ইশার সালাত) দু রাকআত দু রাকআত করে কসর করা আর অন্যগুলোতে কসর না করা অর্থাৎ মাগরিব ও ফজর সালাতে যেভাবে আছে সেভাবেই আদায় করা সুন্নত।

সফরে বিতির ও ফজরের দু রাকআত সুন্নত ছাড়া অন্য ওয়াক্তের সুন্নত নামায না পড়াই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত। তবে সুযোগ থাকলে অতিরিক্ত নফল সালাত যত ইচ্ছা পড়া জায়েয রয়েছে। 

❖ প্রশ্ন: যদি গাড়ি থেকে নেমে ওযু করার মত সুযোগ না থাকে অথবা তায়াম্মুমের জন্য মাটি পাওয়া না যায় অপরদিকে ওয়াক্ত শেষ পর্যায়ে তাহলে কিভাবে সালাত আদায় করতে হবে?

উত্তর: যদি ওযু বা তায়াম্মুম করা কোনটাই সম্ভব না হয় তাহলে ওযু/তায়াম্মুম ছাড়াই সালাত আদায় করতে হবে। তারপরও নামায পরিত্যাগ করার কোন সুযোগ নাই।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
"আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত কোন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)
তিনি আরও বলেন:
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ 
"অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যতটুকু তোমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে।" (সূরা তাগাবুন: ১৬)

❖ প্রশ্ন: যদি গাড়িতে কিবলার দিকে ফেরা সম্ভব না হয় তাহলে কিভাবে সালাত আদায় করতে হবে?

উত্তর:
সর্বাত্তক চেষ্টা করতে হবে কিবলার দিকে মুখ করে সালাত শুরু করার। তারপর গাড়ি যদি অন্য দিকে ঘুরে তাহলেও তাতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। কিন্তু চেষ্টা করার পরও যদি ফরয সালাতে কিবালার দিকে মুখ ফেরানো সম্ভব না হয় তাহলেও যে দিকে সম্ভব সে দিকে ফিরে সালাত আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ।
এ ক্ষেত্রেও  ওযু ও তায়াম্মুম করার সম্ভব না হলে ওযু/তায়াম্মুম ছাড়াই সালাত আদায় করার দলীলগুলো প্রযোজ্য।
আল্লাহু আলাম।
 আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰
উত্তর প্রদানে: 
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (মাদানী)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

#সফর #Collected from facebook

Rawdah Institute | অধিক পঠিত ছোট সূরাহ সমুহের তাফসীর | ১ম ক্লাস | সূরাতুল ফাতিহা

Rawdah Institute | অধিক পঠিত ছোট সূরাহ সমুহের তাফসীর | ১ম ক্লাস | সূরাতুল ফাতিহা Rawdah Institute | অধিক পঠিত ছোট সূরাহ সমুহের তাফসীর | ২য় ক্লাস | সূরা ফীল | 24/07/21

তাকবীরে তাশরীক দিতে ভুলে যাচ্ছি না তো? জেনে নিই তাকবীরে তাশরীকের কিছু মাসআলা

৯ জিলহজ্জ (২০ জুলাই) ফজর থেকে ১৩ জিলহজ্জ (২৪ জুলাই) আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব। যিনি কুরবানি দিবেন এবং যিনি দিবেন না উভয়কেই এই তাকবির বলতে হবে। নারী-পুরুষ উভয়কেই এই তাকবীর বলতে হবে। আমরা যেন তাকবির দেয়ার এই আবশ্যক আমলটি ভুলে না যাই। প্রয়োজনে ফোনে অ্যালার্ম সেট করে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারি। যেন কোনো ক্রমেই এটা ভুল না হয়ে যায়।

নিচে হানাফী ফিকহ অনুসারে তাকবীরে তাশরীক বিষয়ক কিছু মাসআলা তুলে ধরা হলোঃ

১। প্রত্যেক মুসল্লীর জন্য যিলহজ্বের নয় তারিখের ফজর হতে তের তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামায আদায় করে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে উচ্চস্বরে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব।
-সূরা বাকারা : ২০৩; মুসতাদরাকে হাকেম ১/২৯৯হাদীস : ১১৫২-১১৫৭; ইবনে আবী শায়বা ৪/১৯৫ হাদীস : ৫৬৭৭, ৫৬৭৮, ৫৬৯২; সুনানে দারাকুতনী ২/৪৯-৫০ হাদীস : ২৫-২৯; ইলাউস সুনান ৮/১৪৮-১৬২, আদ্দুররুল মুখতার ৩/১৭৭-১৭৮

২। তাকবীরে তাশরীকের জন্য বিভিন্ন শব্দ হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বজন বিদিত শব্দ হল
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ
 -তাবারানী মুজামে কাবীর হাদীস : ৯৫৩৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ৫৬৭৯, ৫৬৯৬, ৫৬৯৭, ৫৬৯৯; ইলাউস সুনান ৮/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৫৮

৩। ইমাম আবু হানীফার (রাহ) এর মতে একাকী নামায আদায়কারী ও মুসাফির ব্যক্তি এবং মহিলাদের উপর তাকবীরে তাশরীক যদিও ওয়াজিব নয়, কিন্তু সাহেবাইনের মতে তাদের উপরও তাকবীর বলা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে সাহেবাইনের কথার উপরই ফতওয়া।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/২৪০-২৪১, ২৫১; ইলাউস সুনান ৮/১৫৯; রদ্দুল মুহতার ২/১৮০; ইমদাদুল আহকাম ১/৭৬৩-৭৬৫, ৭৭৯-৭৮০

৪। সুন্নত, নফল, বিতর নামাযের পর তাকবীর ওয়াজিব নয়।
-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬২; মাবসূত সারাখসী ২/৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২

৫। উচ্চস্বরে একবারই তাকবীর বলা ওয়াজিব
।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; রদ্দুর মুহতার ২/১৭৮

৬। কোনো সময় সকলেই বা কেউ কেউ তাকবীর বলতে ভুলে গিয়ে মসজিদ থেকে বের না হয়ে গেলে তাকবীর আদায় করে নিবে। আর যদি মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় তাহলে এই ওয়াজিব ছুটে যাবে। এই ওয়াজিবের কোনো কাযা নেই এবং ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার কারণে ঐ ব্যক্তি গুনাহগার হবে।
-মাবসূত সারাখসী ২/৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০৯-৫১১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬০-৪৬১; রদ্দুল মুহতার ২/১৮১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৬

৭। আইয়ামে তাশরীকের কোনো নামায কাযা হয়ে গেলে ঐ দিনগুলোর মধ্যে তার কাযা আদায় করলে তাকবীর বলা ওয়াজিব। কিন্তু এই কাযা পরবর্তী অন্য সময় আদায় করলে বা আইয়ামে তাশরীকের আগের কাযা নামায ঐ দিনগুলোতে আদায় করলে তাকবীর বলা ওয়াজিব নয়।
-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১১-৫১৩

৮। ঈদুল আযহায় ঈদগাহে পৌঁছার আগ পর্যন্ত পথে পথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলে বলে যাবে।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/১৯২-১৯৪; দারাকুতনী ২/৪৪-৪৫; ইলাউস সুনান ৮/১১৪-১১৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৩

৯। কোনো ব্যক্তি নামাযে মাসবুক হলে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে স্বীয় নামায আদায় করার পর তাকবীরে তাশরীক বলবে।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/২৩৯-২৪০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬২; রদ্দুল মুহতার ২/১৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২

১০। মহিলারা এই তাকবীরে তাশরীকটি নিচু স্বরে আদায় করবে। উচ্চ স্বরে নয়।
-রদ্দুল মুহতার ২/১৭৯; হাশিয়া তাহতাবী ১/৩৫৭; হিন্দিয়া ১/১৫২

এত গেল তাকবীরে তাশরীফ সংক্রান্ত কিছু মাসআলা। তবে এই তাকবীর সংক্রান্ত যে কয়েকটি গাফলতি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তন্মধ্যে একটি হল মহিলাদের এই আমলের প্রতি যত্নবান না হওয়া। হয়ত এর কারণ এও হতে পারে যে, তাদের এই তাকবীরের কথা স্মরণ থাকে না। তা স্বাভাবিকও বটে। কারণ পুরুষরা মসজিদে জামাতে নামায আদায় করে বিধায় খেয়াল না থাকলেও অন্যের দেখাদেখি এই আমল করতে পারে। কিন্তু মহিলাদের তো এই সুযোগ নেই। তাই মহিলাদের উচিত ঘরের যে স্থানে তারা নামায আদায় করে সেখানে পাঁচ দিনের জন্য একটি কাগজ লিখে ঝুলিয়ে রাখা। যাতে জায়নামাযে এলেই তা নজরে পড়ে।

দ্বিতীয় যে গাফলতিটি নজরে পড়ে তা এই যে, ঈদুল আযহার ঈদগাহে যাওয়ার পথে ও পাঁচ দিনের ফরজ নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক আদায় করলেও অনেক পুরুষ তা পড়ে থাকেন মনে মনে বা খুব নিচু স্বরে। অথচ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরামের এই তাকবীর ধ্বনিতে পুরো আশপাশ কেঁপে উঠত। আর এই তাকবীর উচ্চ স্বরে বলার একটি হিকমত তো এও যে, এর দ্বারা ইসলামের তাওহীদের ঘোষণা প্রকাশ্যে উচ্চস্বরে দেওয়া হবে। গুনগুন শব্দে এর বহিঃপ্রকাশ কি সম্ভব?
-ইসলাহী খুতবাত ২/১২৬-১২৯

পরিশেষে আসুন নির্ভেজাল তাওহীদ, দৃঢ় আক্বীদা ও আল্লাহর মহত্ত্বের উপর অটুট আস্থা স্থাপনের মাধ্যমে গড়ে তুলি একটি আদর্শ সমাজ, যা হবে শিরকের পঙ্কিলতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তাওহীদের সমাজ। পুণ্যময় তেরটি দিনের এটিই মৌলিক বাণী। তাকবীরে তাশরীকের এটিই মহান শিক্ষা।

(মাসআলাগুলো নেয়া হয়েছে মাসিক আলকাউসার পত্রিকার অনলাইন সংস্করন থেকে https://www.alkawsar.com/bn/article/36/)

কুরবানি বিষয়ক করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় এবং প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার ও মনগড়া রীতি সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন এই লিংকেঃ

Copied from Muslims Day Android App

The Holy Quran Shareef Easy Bengali Translation

পবিত্র রজব মাসকে কেন্দ্র করে কিছু বিদআত

পবিত্র রজব মাসকে কেন্দ্র করে কিছু বিদআত

শবে মেরাজের বিশেষ আমল এবং অন্যান্য
রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর পত্র-পত্রিকায় নিউজ হয়ে থাকে যে, রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে তাই অমুক দিন শবে মেরাজ পালিত হবে। শবে মেরাজ কোন তারিখে হয়েছিল তা নিয়ে প্রায় ১৬ টি মত রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বর্ণনা পাওয়া যায় রবিউল আউয়াল মাসের ব্যাপারে। নবীজির (সা) মাক্কী জীবনে মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল। এরপর নবীজি (সা) অনেক বছর জীবিত ছিলেন, সাহাবীগণ (রা) জীবিত ছিলেন তাবেয়ীগণ (রহ) জীবিত ছিলেন। এত বিপুল সংখ্যক সাহাবী ও তাবেয়ী কর্তৃক এমন কোনো গ্রহনযোগ্য বিশুদ্ধ হাদীস পাওয়া যায় না যার দ্বারা মেরাজের তারিখ নিশ্চিত হওয়া যায়। একই ভাবে এমন কোনো গ্রহনযোগ্য হাদীস পাওয়া যায় না যার দ্বারা এই রাতে বিশেষ নামাজ বা পরদিন কোনো রোজার বর্ণনা আছে। যেগুলো বর্ণিত হয় তার সবই জাল ও বানোয়াট কথা। তাই আমরা যারা সারা জীবন ২৭ রজবকে নিশ্চিত ভাবে শবে মেরাজ পালন করে আসছি তারা এখন থেকে এই মনগড়া রেওয়াজ রসম উদযাপন থেকে বিরত থাকি। নবীজি (সা) ও সাহাবীগণ (রা) যে দিবস উদযাপন করেন নি আমরা কেন দ্বীনের নামে তা পালন করব? আল্লাহ আমাদেরকে বিদআতমুক্ত আমলের তাওফিক দান করুন। আমীন।

রজব মাসকে কেন্দ্র করে আরও কিছু বিদআত প্রচলিত আছে। সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো। লেখাটির শেষে রেফারেন্স যোগ করা রয়েছে। সেখানে হানাফী মাজহাবের একাধিক আলেমদের বক্তব্যের লিংক রয়েছে। আমরা বিদআতমুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান করায় যেসকল ভাইগণ আমাদেরকে "ওহাবী", "লা-মাজহাবী", "আহলে হাদীস" ইত্যাদি উপাধি দিয়ে থাকেন তারা অনুগ্রহ করে ঐ রেফারেন্সগুলো যাচাই করে নিবেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা হানাফী ফিকহ অনুসরণ করে থাকি এবং একই সাথে আহলে হাদীস সহ সকল ফিকহী মাজহাবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহনশীল ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

১. রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার  : লায়লাতুর রাগায়েব
===========================

এটা একটা আবিস্কৃত রজনী। শরীয়তে এর কোনো  ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে প্রথম কথা হল, এখানে বৃহস্পতিবারকে লাইলাতুর রাগায়েব বলা হয়েছে। অথচ 'লাইলাতুন' অর্থ রাত। ফলে একটি ভুল বিষয় বলতে গিয়ে আরেকটি ভুল করেছেন। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত-এর স্থলে সরাসরি বৃহস্পতিবার বলে দিয়েছেন। আর যে ভিত্তিহীন বর্ণনার আলোকে তা আবিষ্কার করা হয়েছে তা এই-

১. যারা রজব মাসে রোযা রাখে তাদের গুনামাফীর জন্য ফেরেশতাকুল রজবের প্রথম জুমআর রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুআয় মগ্ন থাকেন।

২. যে ব্যক্তি রজবের প্রথম বৃহস্পতিবার রোযা রাখে অতপর মাগরিব ও ইশার মাঝখানে দু' রাকাত করে (বিশেষ পদ্ধতিতে) বার রাকাত নামায আদায় করে তার সকল প্রয়োজন  পূরণ করা হয় এবং তার সকল গোনাহ মাফ করা হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা, বালুকণা, পাহাড়ের ওজন এবং বৃক্ষের পাতার সমপরিমাণ হয়। আর কিয়ামতের দিন সে তার পরিবারের সাতশ গোনাহগার জাহান্নামের উপযোগী মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

এ দুই বানোয়াট রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে প্রয়োজন পূরণের কথিত এ রাতের নাম রাখা হয়েছে 'লাইলাতুর রাগায়েব' আর বিশেষ পদ্ধতির নামাযের নাম রাখা হয়েছে 'সালাতুর রাগায়েব'।

ইবনে রজব হাম্বলী রহ. বলেছেন, সালাতুর রাগায়েব ও এর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীস বানোয়াট ও মিথ্যা। আবু ইসমাইল আনসারী, আবু বকর সামআনী, আবুল ফযল ইবনে নাসির, ইবনুল জাওযী সকলেই এ সংক্রান্ত রেওয়ায়াতকে ভিত্তিহীন বলেছেন।-লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১৭১; মা সাবাতা বিস্সুন্নাহ ফী আইয়ামিস সানাহ,পৃ. ১৮০

২. ১৫ই রজব : শবে এস্তেফতাহ
===========================

'শবে এস্তেফতাহ' অর্থ নতুন করে শুরু করার রজনী। 'শব' অর্থ রাত আর 'এস্তেফতাহ' অর্থ নতুন করে শুরু করা।

এখানেও ১৫ রজব বলতে ১৫ এর দিবস উদ্দেশ্য নয়; বরং রাত। অর্থাৎ ১৪ই রজব দিবাগত রাত।

একটি জাল বর্ণনার উপর ভিত্তি করে এ রাতের আবিষ্কার। বর্ণনাটি হল, 'এ রাতে চার রাকাত নামায বিশেষ নিয়মে আদায় করে নির্দিষ্ট পরিমাণ দুরূদ, তাসবীহ-তাহমীদ ও তাহলীল আদায় করলে আল্লাহর পক্ষ হতে তার নিকট এক হাজার ফেরেশতা পাঠানো হয়। যারা ঐ ব্যক্তির জন্য নেকী লিখতে থাকেন এবং ঐ রাত পর্যন্ত যত গুনাহ সে করেছে সব মাফ করে দেন। অবশেষে তার কাঁধে হাত রেখে একজন ফেরেশতা বলেন, তুমি নতুন করে আমল শুরু কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন ...।'

গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে নতুন করে আমল শুরু করার এই বানোয়াট বর্ণনার কারণেই সম্ভবত এই রাতের নাম রাখা হয়েছে   'শবে ইস্তেফতাহ'।

উল্লেখিত বর্ণনা ছাড়াও এ রাত সম্পর্কে এ ধরনের আরো ভিত্তিহীন বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু আসল কথা হল, শরীয়তে 'শবে ইস্তেফতাহ' নামে বিশেষ কোনো রাতের অস্তিত্বই নেই। ইবনে রজব হাম্বলী রহ. বলেন, রজব মাসের বিশেষ পদ্ধতির নামাযের কোনো বর্ণনাই প্রমাণিত নয়।-লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১৭১

৩. ২৭ শে রজব : লাইলাতুল মিরাজ
===========================

এ রাতকে লাইলাতুল মিরাজ বা শবে মিরাজ বলা হয়ে থাকে। কোনো কোনো পুস্তক-পুস্তিকায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে তা প্রসিদ্ধ যে, মিরাজের ঘটনা রজব মাসের ২৭ তারিখে সংঘটিত হয়েছিল। এ কথাটি শুধু ইতিহাসের একটি বর্ণনার ভিত্তিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যার সনদ সহীহ নয়। অন্যথায় এটি কোনো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস দ্বারাও প্রমাণিত নয়, হাদীস শরীফ কিংবা কোনো সাহাবীর উক্তি দ্বারা তো নয়ই। নির্ভরযোগ্য সূত্রে শুধু এটুকুই পাওয়া যায় যে, মিরাজের ঘটনা হিজরতের এক বা দেড় বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মাস, দিন, তারিখের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোনো দলীল নেই।

অনেক আলেম বলেছেন, মিরাজের রাত নিঃসন্দেহে একটি বরকতময় রাত ছিল কিন্তু এই রাতে যেহেতু বিশেষ কোনো আমল বা ইবাদত উম্মতের জন্য বিধিবদ্ধ হয়নি তাই  এর দিন-তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত থাকেনি। -আলমাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ ও শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাহ ৮/১৮-১৯; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া, ইমাম ইবনে কাছীর ২/৪৭১; লাতাইফুল মাআরিফ, ইমাম ইবনে রজব ১৩৪; ইসলাহি খুতুবাত, আল্লামা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ১/৪৬-৪৮

রজব মাস যেহেতু কুরআনে বর্ণিত চার সম্মানিত মাসের একটি সুতরাং এর পুরোটাই বরকতময়। তাই এ মাসের সবকটি দিন ও সবকটি রাতেই ইবাদাত বন্দেগীর ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিৎ। কিন্তু এর ২৭ তারিখ যেহেতু শবে মিরাজ হিসেবে প্রমাণিত নয় তাই এ রাতকে বিশেষ ইবাদাতের জন্য নির্দিষ্ট না করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট রসম রেওয়াজও ত্যাগ করা উচিত।


রেফরেন্সঃ
===========
১।
ফযীলতপূর্ণ দিবস-রজনী : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
মাওলানা মুহাম্মাদ ফজলুল বারী
https://www.alkawsar.com/bn/article/779/

২।
শবে মেরাজ ও তার আমল : ইসলামে এর কোন ভিত্তি আছে কি? : মাওলানা তাহমীদুল মাওলা
https://youtu.be/gWnthxeByjY?t=39

৩।
শবে মেরাজের আমল ও করণীয় - শায়খ আহমাদুল্লাহ
https://youtu.be/bvA6-ENsez0

Copied from Muslims Day Android App
Download Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=theoaktroop.appoframadan 

অনলাইনে সহজ কুরআন শিক্ষা